এসইও [SEO] শব্দটা হয়তো অনেকেই শুনেছেন, আবার অনেকেই শুনেননি। যারা প্রথমবার শুনছেন তাদের জন্য এসইও [SEO] সম্পর্কে একটু বলে নিই। এসইও [SEO] এর ফুল ফর্ম হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন [Search Engine Optimization]। নাম শুনেই কিছুটা বুঝা যায় যে- এটা অনলাইনের সার্চ ইঞ্জিন বিষয়ক কিছু একটা। সহজ কথায় বলতে গেলে, মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনের বিভিন্ন অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে কোনো ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে, কোনো ওয়েব সার্চের রেজাল্টে ওপরের দিকে প্রদর্শন করানোর নিয়ম। অনলাইনে- গুগল, ইয়াহু, বিং, ডাকডাকগো এর মতো অসংখ্য সার্চ ইঞ্জিন থাকলেও, অধিকাংশ ইউজারই গুগল ব্যবহার করে। ফলে এসইওর ৯৫% কাজই করা হয় গুগলের ওপর। কোনো ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে এসইও করা হয়, যাতে ইউজাররা গুগলে সেই টপিকে সার্চ দিয়ে প্রথম পেজের ১০ টি রেজাল্টের মধ্যে কন্টেন্টটি পেয়ে যায়। হতে পারে, আপনিও আমাদের এই পোস্টটি পড়তে পারছেন, এসইওর কারণে। যাই হোক, এসইও [SEO] নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত পোস্ট দেবো। তার আগে ডেইলি লাইভের আজকের পোস্টে জেনে নিই— কোনো ওয়েবসাইটের এসইও [SEO] করা কেন গুরুত্বপূর্ণ? চলুন শুরু করা যাক।
ওয়েবসাইটের এসইও করা কেন গুরুত্বপূর্ণ? [Importance Of SEO]
ওপরের আলোচনাতেই ধারণা পেয়েছেন যে, এসইও করা হয় কোনো সাইটের পোস্ট বা কন্টেন্টকে যাতে সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে শো করানো যায়। কোনো পোস্ট যদি সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে আসে, তখন বলা হয় পোস্টটি র্যাংক করেছে। এখন পোস্ট র্যাংক করে লাভ কী? লাভ হলো— সাইটে ফ্রিতেই প্রচুর সার্চ ট্রাফিক আনা। আর এই সার্চ ট্রাফিক লয়্যাল ইউজার ও পটেনশিয়াল কাস্টমারও হয়। উদাহরণ সহ বুঝা যাক:
ধরুন আপনি নিজে একটা ওয়েবসাইট খুলেছেন, এখন সেটাতে ট্রাফিক আসছে না। আপনি কোনোভাবে জানতে পারলেন এসইও করলে ভালো ট্রাফিক আসে। এরপর আপনি এসইও কী, এসইও কেন গুরত্বপূর্ণ এসব জানতে গুগলে সার্চ দিলেন। সার্চ দিয়ে প্রথম পেজে পেয়ে গেলেন আমাদের এই পোস্টটা! এরপর আমাদের এই পোস্টে ঢুকে, পুরোটা পড়ে এসইও সম্পর্কে ধারণা নিলেন। এই যে আপনি ভিজিটর হিসেবে এসে আমাদের সাইটে কন্টেন্ট পড়েছেন বা ভিউ করেছেন, এতে বিজ্ঞাপন থেকে আমাদের কিছুটা আয় হবে। আবার মনে করুন, আমরা এই সাইটের মাধ্যমে এসইও সার্ভিস সেল করে থাকি। সেটা দেখে আপনিও আমাদের কাছ থেকে এসইও সার্ভিস নিতে আগ্রহী হলেন। ব্যস, একটা গুগল সার্চ থেকেই আপনি হয়ে গেলেন আমাদের পটেনশিয়াল কাস্টমার। এবার বুঝতে পারছেন তো, কেন ডিজিটাল মার্কেটিং এ এসইও এতটা পাওয়ারফুল সেক্টর!
⏩ আরও পড়ুন: অনলাইন শপিং করার টিপস!
এসইওর গুরুত্বকে আরেকটু মেটাফোর দিয়ে বোঝানো যাক:
আমাদের ওয়েবসাইটকে যদি কোনো বাগান হিসেবে ধরা হয়, তাহলে সাইটের কন্টেন্ট বা পোস্টগুলো হলো একেকটা গাছ। তো, গাছের গ্রোথের জন্য কী কী করতে হয়? পানি ও সার দিতে হয়। ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের জন্য সেই পানি ও সার হলো এসইও ওয়ার্কস।
পানি আর সার না দিলে আপনি বাগানে যতই গাছ লাগান না কেন, গাছের বৃদ্ধিও হবে না, গাছ বাঁচবেও না, ফল পাওয়া তো দূরের কথা। তো, ওয়েবসাইট থেকে যদি ফল পেতে চান, আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন (অর্থাৎ রেগুলারলি) পানি আর সার দিতে হবে (মানে এসইও করতে হবে।) আবার খুশির ঠেলাতে অতিরিক্ত পানি আর সার দেওয়া যাবে না, কারণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দিলে গাছ এসব সহ্য করতে না পেরে মরে যায়। তেমনি ওভার অপটিমাইজ করলে আপনার সাইটের এসইও ফুললি ডেড হয়ে যাবে।
সুতরাং, শুরুতে একটা সুন্দর বাগান [সাইট] তৈরি করুন। এরপর বেছে বেছে বেস্ট বেস্ট গাছ [কন্টেন্ট] লাগান। গাছ লাগানোর পর রেগুলারলি পরিমিত পরিমাণে পানি ও সার [এসইও] দিতে থাকুন। এরপর ফল [ট্রাফিক + প্রফিট] আসার অপেক্ষা করুন। সঠিক সময়ে ফল আসবেই নিশ্চিত!
এসইও নিয়ে আরও নতুন নতুন পোস্ট পেতে ডেইলি লাইভে চোখ রাখুন!
এসইও সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটির জন্য। আরও পোস্ট চাই এসইও নিয়ে…!