লম্বা সময়ের খেলা ক্রিকেট, খেলতে প্রয়োজন হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ওয়ানডেতে ৫০ ওভার করে দুই দলকে খেলতে হয় মোট ১০০ ওভারের খেলা। আর রাজকীয় ফরম্যাট টেস্টে তো খেলা চলে পুরো পাঁচ দিন সময় নিয়ে। তবে ক্রিকেটে এসেছে তুলনামূলক নতুন আরেকটি প্লেয়িং ফরম্যাট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, বা টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নামেও ডাকা হয় যাকে। ক্রিকেটের একটি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নতুন এই ফরম্যাটের জন্ম ২০০৩ সালে। ইংল্যান্ডে প্রথম শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই ফরম্যাটে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অর্থাৎ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং লিগও খেলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ওয়ানডে কংবা টেস্ট ক্রিকেটের তুলনায় সময় কম লাগায় দর্শকরা খেলার এই সংস্করণের প্রতি আগ্রহী বেশি। তাছাড়া নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোও একই কারণে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে।
চলুন, ডেইলি লাইভের আজকের পোস্টে জেনে নিই— টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যেভাবে ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্রকে বদলে দিতে প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে বিস্তারিত।
টি-টোয়েন্টি : ক্রিকেটে এর প্রভাব ও ভবিষ্যত
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলাটিতে একটি নতুন দর্শক শ্রেণি নিয়ে এসেছে। যারা আগে ক্রিকেটে তেমন আগ্রহী ছিল না তাদেরকেও নতুন করে আকর্ষিত করছে। খেলার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, এর দ্রুত-গতিসম্পন্ন এবং উত্তেজনাপূর্ণ প্রকৃতির সাথে মিলিত, ক্রিকেটকে তরুণ দর্শকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একই সাথে যারা ছোটো খেলা পছন্দ করে, তাদের সামনেও ক্রিকেটকে উপস্থাপন করতে পেরেছে।
⏩ আরও পড়ুন: আধুনিক ক্রিকেটে অধিনায়কের গুরুত্ব!
চিরায়ত কৌশলে পরিবর্তন
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, খেলাটির চিরায়ত পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। এই সংস্করণে দলগুলো এখন দ্রুত রান করা এবং আক্রমণাত্মকভাবে উইকেট নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের আরও আক্রমণাত্মক শট খেলতে উৎসাহিত করা হয়। অন্যদিকে বোলাররাও নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার ব্যবহার করে নিত্য-নতুন বোলিং স্টাইল অনুসরণ করছে। ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা জানার জন্য আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণে মনোযোগী হচ্ছে।
আয় বৃদ্ধি
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি ঘরোয়া লিগ তৈরি করেছে। এই লিগগুলি সারা বিশ্ব থেকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নামী খেলোয়াড়দের ডেকে আনছে। যার ফলে ক্রিকেটারদের জন্য পেশা হিসেবে খেলাটি আরও লাভজনক হয়ে ওঠেছে। একই সাথে এই লিগগুলো থেকে আসা রাজস্বও খেলাধুলা তথা দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখছে।
তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বহুল উত্থান ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক কিছু পরিবর্তনও নিয়ে এসেছে। সেসব নিয়েও বলা যাক—
খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুত গতির প্রকৃতি খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত করে তুলেছে। লিগ ও সিরিজ বেড়ে যাওয়ার কারণে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ফলস্বরূপ বেড়েছে ইনজুরি। আর ইনজুরির কারণে হারিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক ক্রিকেটারকেই।
অন্য ফরম্যাটগুলোর ওপর প্রভাব
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, খেলাটির অন্যান্য ফরম্যাটের ওপরেও বেশ কিছু প্রভাব ফেলেছে। অনেক খেলোয়াড়ই এখন টেস্ট ক্রিকেটের মতো ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটের চেয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেছে। এর ফলে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা, অথচ টেস্টকে ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে বিশুদ্ধতম রূপ হিসেবে দেখা হয়।
⏩ আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ-সংস্কৃতিতে ক্রিকেট!
মোটকথায় বলতে গেলে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থান ক্রিকেট জগতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এটি নতুন দর্শক এনেছে এবং আয় বাড়িয়েছে অথবা কৌশল এবং খেলার পদ্ধতিতেও মোটাদাগে পরিবর্তন এনেছে। তবে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার এবং খেলার অন্যান্য ফরম্যাটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ । তবে সামনের দিনগুলোতে টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যে বাড়বে বইকি কমবে না, সে কথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
**********
প্রিয় পাঠক, এই ছিল— টি-টোয়েন্টি : ক্রিকেটে এর প্রভাব ও ভবিষ্যত সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি, লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এই ধরনের পোস্ট আরও পড়তে ডেইলি লাইভ এর সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।
Informative! Good article.
ভালো লিখসেন ভাই